আমি চলচ্চিত্রের সেবক হিসেবে সবসময় কাজ করে যাব : ইলিয়াস কোবরা

Screenshot_20191019_224139.jpg

।। মিজানুর রহমান মিজান ।।
( টেকনাফ কক্সবাজার )

আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইলিয়াস কোবরা বলেছেন আমি চলচ্চিত্রের সেবক হিসেবে সবসময় কাজ করে যাব।
২৫ অক্টোবর আর বাকী মাত্র ৫দিন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তারকাবহুল একটি প্যানেল নিয়ে নির্বাচন করার কথা থাকলেও নানা কারণে প্যানেল গঠন করা সম্ভব হয়নি,তবে মৌসুমী ও ইলিয়াস কোবরা নির্বাচনী মাঠে এক সাথেই প্রচারনা চালাচ্ছেন। গত কয়েকদিনে ভাল মন্ধ মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠ প্রায় শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলা চলে।বিচ্ছিন্ন দুই একটি ঘঠনার সুত্রপাত হলেও মৌসুমী ও কোবরার আন্তরিক বোঝাপড়ায় তা মিঠমাট হয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ এখন। তবে প্যানেলে না থাকলেও মৌসুমী ও কোবরাকে এ লড়াইয়ে শুভ কামনা জানিয়ছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় সব তারকাশিল্পীরা। জানিয়েছেন প্যানেলে না থাকলেও সঙ্গে আছেন এ দুই তারকার

×× বেশ সাহসী পদক্ষেপ: : ববিতা

নিরপেক্ষভাবে কিছু কথা বলতে চাই। শিল্পী সমিতির সব সদস্যই আমার প্রিয়। তবে এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী মৌসুমীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছে সে। এটা বেশ সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে বলতে হয়। একাই লড়ছে। আসলে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির জন্য এমন সাহসী নেত্রীই আমাদের দরকার।

এবারের নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত যে আলোচনা আর সমালোচনা হচ্ছে তা নিয়ে বেশ সংকটেই আছি, বলতে হয়। আমি চাই না শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে বাজে পরিস্থিতির ঘটনা ঘটুক এফডিসিতে। আমার মনে হয় নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দর করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতা যাতে থাকে সেই বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। আমি মনে করি নির্বাচন এবং ভোট গননার সময় সিসি টিভির আওতায় সব রাখলে সবাই জানতে ও বুঝতে পারবেন কি হচ্ছে আর কী না হচ্ছে।

।। তার জন্য শুভকামনা:: রিয়াজ

নিজের শারীরিক সমস্যার কারণে নির্বাচনে সময় দেওয়া কঠিন হবে আমার জন্য। তাই এবার নির্বাচনে নেই। তবে একটা কথা মানছি, এখনকার শিল্পী সমিতির পরিবেশ ভয়াবহ রকমের দূষিত হয়ে গেছে। যে অশ্নীলতার কারণে সিনেমা ছেড়ে শিল্পীদের জন্য কাজ করতে সমিতিতে এসেছিলাম, এখানে এসে সেই একই রকম দূষিত পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি। এই সময়ে মৌসুমীর মতো অভিনেত্রী নির্বাচন করছেন। একাই করছেন, এটা সাহসী পদক্ষেপ। তার প্রতি শুভ কামনা থাকবে। তার মতো তারকা সমিতির নেতৃত্বে আসা দরকার। তবে একটা কথা বলে রাখি, মৌসুমীর মতো তারকারা যদি শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে না আসে, তাহলে এ সমিতির পরিবেশ আরও খারাপের দিকে যাবে, যা একজন চলচ্চিত্র শিল্পী হিসেবে, ও সমিতির সদস্য হিসেবে আমি কখনোই চাইব না। আমি আছি, তার সঙ্গে। কারণ আমি চাই মৌসুমী নেতৃত্বে আসুক। তার জন্য শুভকামনা।

।। আমরা সবাই আছি: ফেরদৌস

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আমারও প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। ইচ্ছাও ছিল। সেটা অবশ্যই মৌসুমীর প্যানেল থেকে। কিন্তু আসা হয়নি। কারণ, এ নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সমস্যা ছিল। যে মিটিংয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়, ওই মিটিংয়ে আমি বলেছিলাম নির্বাচন ১৮ অক্টোবর থেকে কয়েক দিন পিছিয়ে দিতে। কিন্তু সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১২-১৩ জন মিলে পেছালেন না। পরে ঠিকই পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর করা হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে মৌসুমীর ওপর আমার পূর্ণ সমর্থন। তিনি আমার খুব কাছের বন্ধু। এর বাইরেও শিল্পী সমিতির মতো এত বড় একটা সংগঠনের নেতৃত্বে তো মৌসুমীর মতো তারকাশিল্পীরই আসা উচিত। তার মতো বড় মাপের অভিনেত্রী নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়ছেন- এটাই তো আনন্দের খবর। বন্ধুর পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। আর আমি মনে করি মৌসুমী নির্বাচনে পাশ করলে আমাদের শিল্পীদের জন্য অনেক ভালো হবে। মৌসুমীর জয় শুধু তার নিজের জন্য নয়, আমাদের সবার জন্যই ভালো হবে।

।। মৌসুমীর জয় তার নিজের জন্য নয়:পপি

মৌসুমী আপার প্রতি আমার শুভ কামনা থাকবে। নেতৃত্বে মৌসুমী এলে অবশ্যই সমিতি বর্তমান অবস্থা থেকে ভালো পরিবেশের দিকে যাবে। একটা বিষয় খুবই খারাপ লাগছে। সেটা হচ্ছে, এবার কেউ কেউ প্যানেল প্রস্তুত করেই নিজের মতো করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছেন। অন্যদের প্যানেল গোছানোর সময়ই দেওয়া হয়নি। দিলে হয়তো শিল্পী সমিতির নির্বাচন অন্যরকম হতো। তারকাবহুল আরেকটি প্যানেল পেতাম আমরা। সেটা হলো না। কিছু মানুষের নোংরামির কারণে নির্বাচন করার ইচ্ছা হয়নি। শিল্পী সমিতি ঘিরে একটি অসৎ চক্র তৈরি হয়েছে। মৌসুমী আপা এলে এই চক্র ভেঙে পড়বে। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা এককভাবে নিজের সমিতি মনে করে চলছেন, সেটা অন্যায়। এই অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। তাই আশা করব, মৌসুমী আপা জয়ী হবে। কারণ সবাই আছি তার পাশে। আমার বিশ্বাস মৌসুমীর তার একা যুদ্ধে জয়ী হবেই। এই জয় তার নিজের জন্য নয়। আমাদের সবার জন্য
২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া মৌসুমী ও অভিনেতা ইলিয়াস কোবরার নির্বাচনী সমর্থন ফেলে দেয়ার মতো নয় বরং বলতে হবে প্রতিদন্ধিদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।ইলিয়াসষকোবরা গতবারের মতো তিনি এবারও সেক্রেটারি পদে লড়ছেন জায়েদ খানের বিপরীতে। তবে নির্বাচন নিয়ে উৎসবের আমেজ নয়, বরং বিশৃঙ্ক্ষল পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছেন বলে ফোনে ডেইলি টেকনাফকে জানান।

১৯৭৬ সালে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকায় যান কোবরা। দূরদর্শি দূরন্ত প্রতিভাবান কোবরার কুংফুর যাদুকরী পারফরমেন্স নজর কাড়ে মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানার)তার ছবিতে সুযোগের পর ব্যবসা সফল সয় এ ছবি।এর পর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা ভিলেন অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা বলেন, শিল্পীদের নির্বাচন হবে উৎসবের মতো। আগের নির্বাচনগুলো তেমনই হতো। কিন্তু এবার নির্বাচন নিয়ে উৎসবের আমেজ নেই। নির্বাচন ঘিরে এফডিসিতে আতঙ্ক পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি। আমি প্রার্থী হিসেবে এগুলো মোকাবেলা করছি। শিল্পীদের নির্বাচনে এমন আতঙ্ক কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ডেইলি টেকনাফকে জানান ২৫ অক্টোবরে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নেতা হওয়ার জন্য নয় সিনেমার এবং শিল্পীদের সুবিধা অসুবিধা সমিটির উন্নয়ন ঐতিহ্য ধরে রেখে মরুময় অকার্যকর এফডিসিকে সৃষ্টিশীল মননশীল সুস্থ বিনোদন নিয়ে সেবক হয়ে কাজ করতে চান ইলিয়াস কোবরা।
দীর্ঘ ৩০ বছর সিনেমায় কাটিয়েছি,জীবন যৌবনের উত্তাল দিন গুলো এখানে কেঠেছে তাই স্বাভাবিক ভাবেই এর প্রতিগভীর দায়িত্ব মমত্ববোধ অন্তরে বিরাজ করে।এইখানে ভাব নিয়ে চলা নেতার চেয়ে সর্বমহলের সাথে মিশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভাল কিছু কাজ জাতীকে উপহার দেয়া সম্ভব। জীবনের শেষ দিন গুলি ইন্ডাস্ট্রির মান উন্নয়নে নতুন উদ্দিনপনায় বিনির্মানের নিয়ত রয়েছে মনে। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ বাহার ছড়ার নোয়াখালী পাড়া গ্রামে ও সমাজ সেবামূলক কাজে জড়িত আছেন তাই এলাকাবাসী ভালোবেসে স্থানিয় বাজারের নাম ও দিয়েছে ইলিয়াস কোবরা বাজার।
পাশাপাশি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেন মাদক নির্মূল অভিযানে।স্থানিয় প্রশাসনের সাথে মাদক জঙ্গি মানব পাচার ও এলাকার সকল অপরাধ দমনে নিরলস ভাবে আত্মনিয়োগ করেন ইলিয়াস কোবরা।সে এলাকার মাদক নির্মূল পুলিশিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাথে একটি মাদ্রাসার পরিচালনার দায়িত্ব ও পালন করছেন।
২৫ অক্টোবর হবে শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। যেখানে জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক পদে ও মিশা সওদাগর সভাপতি পদে একটি পূর্ণ প্যানেল দিয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন মৌসুমী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন ইলিয়াস কোবরা।

সম্পাদনা::
মিজানুর রহমান মিজান
টেকনাফ কক্সবাজার

আপনার মন্তব্য দিন

Share this post

scroll to top