কক্সবাজারের আশ্রয়হীন জনগনের পক্ষে প্রধান মন্ত্রী বরাবর শহীদুল্লাহ মেম্বারের খোলা চিঠি।

FB_IMG_1548980073335.jpg

মিজানুর রহমান মিজান।।
টেকনাফ,০১জানুয়ারী২০১৯ইং।সকালঃ০৭ঘটিকা।

কক্সবাজারের আশ্রয়হীন জনগনের পক্ষে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর শহীদুল্লাহ মেম্বারের খোলা চিঠি হুবহু কপি করে ছাপা হলঃ
≠================================≠
মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী
বাংলার অসহায় মানুষের পরীক্ষীত বিশ্বস্ত নেত্রী,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, দেশরত্ন, কওমি জননী, বিশ্ব মানবতার ” মা “জননেত্রী শেখ হাসিনা আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। মারে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী আপনার তৃণমূল পর্যায়ের সহযোগী সংগঠনের একজন নগন্য কর্মী হিসাবে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনার জীবনের স্মৃতি বিজড়িত কক্সবাজারের আশ্রয়হীন মানুষের দুঃখের গাঁথা আপনার বরাবর তুলে ধরতে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আজকের খোলা চিঠি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রকাশ্যে গোপনে অনেক বার কক্সবাজারে এসেছিলেন কক্সবাজারকে ভালবেসে। ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধু তাঁর আদরের বড় কন্যা হিসাবে আপনার বৈবাহিক জীবনের প্রথম বছরে আপনার স্বামীসহ আপনাকে কক্সবাজার পাঠিয়েছিলেন আপনার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর আমরণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জননেতা এ কে এম মোজাম্মেল হক সাহেবের কাছে । তারপর থেকে আপনিও আপনার পিতার মতো কক্সবাজারকে ভালবেসে আপনার রাজনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে আপনার শাসনামলে বারবার কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন। কক্সবাজার ও কক্সবাজারের মানুষকে ভালবাসেন বলেই কক্সবাজারের উন্নয়নে দেশের সর্বোচ্চ বাজেটের মেগা প্রকল্প গ্রহন করে তার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে অন্যতম মেগা প্রকল্প কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নিত করণে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প।এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যে জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত জায়গার পরিমাণই বেশী। সেই খাস জায়গায় বসবাসকারীরা কক্সবাজার পৌরসভার এক (১) নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত চর পাড়া, সমিতি পাড়া,আন সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া,ফদনার ডেইল,টুইট্টা পাড়া এলাকার ভোটার । সেই বসবাসকারীদের পুনর্বাসন করতে আপনার নির্দেশে কক্সবাজার সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নে সরকারী খাস জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহ নির্মাণকাজ বর্তমান সময়ে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এই অঞ্চলের অসহায় আশ্রয়হীন মানুষকে ভালোবাসেন বলেই সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অধিগ্রহণকৃত এলাকায় খাস জায়গাতে বসবাসকারীদের পুনর্বাসন করার মহৎ উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। সেই কারণে আজ কক্সবাজার পৌরসভার এক (১) ওয়ার্ডের অসহায় আশ্রয়হীন মানুষ গুলো তাদের অন্তরের অন্তস্তলে আপনাকে স্থান দিয়েছেন এবং এতদঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে দীর্ঘকাল ধরে বসবাসরত জায়গা সানন্দে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কোন প্রকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াই কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ফাতের ঘোনা নামক এলাকায় সরকারি খাস জায়গায় দীর্ঘকাল ধরে বসবাসকারী গরীব জনগণের ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ করে দিয়ে অসহায় মানুষ গুলোকে আশ্রয়হীন করেছেন। জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মধ্যে যারা যারা প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ সরকারী খাস জায়গায় যুগের পর যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। বসবাসকারীদের মধ্যে সামান্য কিছু মানুষ বাপ দাদার নামীয় জোত খতিয়ানী জায়গার মাথা খিলা হিসাবে দখল সুত্রে পেয়ে ভোগ দখলে আছেন। আবার বৃহদাংশ মানুষ নদী ভাঙা এবং ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাপ-দাদার ভিটি বাড়ী হারিয়ে জীবনের শেষ সম্বল ঠুকু বিক্রি করে দিয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে মাথা গুছার ঠাঁই হিসাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকার দখলদারদের কাছ থেকে দখল ক্রয় করে কাঁচা-আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। এই এলাকায় এমন কিছু মানুষজনও আছেন যারা স্বাধীনতা পুর্ববর্তী ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমল থেকেই যুগের পর যুগ ধরে এই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। সেই দখলদারদের নামানুসারে উল্লেখিত জায়গার নামকরণ হয়েছে যেমন ফাতের ঘোনা নামের এলাকা।
হে মানবতার “মা”,
আমরা কক্সবাজারে সরকারের উন্নয়ন বিরোধী নয়। এই অঞ্চলের জায়গায় যদি সরকার কোন প্রকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করে আমরা তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন অবশ্যই চাই। আপনার কাছে আমাদের বিনীত নিবেদন হল, সরকারি খাস জায়গাতে বসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিকদের খাস দখলীয় জায়গা যদি সরকারের প্রয়োজন হয়। সেই খাস জায়গায় বসবাসকারীদের যাতে অন্যত্র পুনর্বাসন করা হয় আপনার কাছে আমাদের সেই মিনতি ঠুকুন শুধু জানাচ্ছি। কেননা কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ৭, ৮,৯,১০,১১ ও সর্বশেষ ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জনবসতির বেশির ভাগই হলো সরকারি খাস জায়গার উপর। এই ভূমিহীন মানুষ গুলোর আশ্রয়ের শেষ সম্বল হল সরকারি খাস জায়গায় নির্মিত ঘর বাড়ি গুলোই। এই ঘরবাড়ি ছাড়া তাদের আর কোন আশ্রয়স্থল নেই।
মা রে বর্তমানে আশ্রয় হারা এই মানুষ গুলো তাদের আশ্রয়স্থল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আপনি মানবতার মা হিসাবে এই আশ্রয়হীন মানুষ গুলোকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আপনার প্রতি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে আপনি এই আশ্রয়হীন মানুষ গুলোকে মাথা গুছবার ঠাঁই করে দিবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আপনাকে আবারও অন্তরের অন্তস্তল থেকে সালাম জানিয়ে আজকের মত আমার এই খোলা চিঠি লিখা শেষ করলাম।
ইতিঃ—
কক্সবাজার পৌরসভার ফাতের ঘোনা এলাকার বাস্তুহারা আশ্রয়হীন মানুষের পক্ষেঃ-
আপনারই তৃণমূল পর্যায়ের একজন নগন্য কর্মী,
মোঃ শহীদুল্লাহ
(সাবেক ইউপি মেম্বার)
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ কৃষক লীগ
কক্সবাজার জেলা শাখা এবং কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক, ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক, কক্সবাজার সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কক্সবাজার জেলার সহ সভাপতি এবং দৈনিক আলোকিত উখিয়া সংবাদপত্রের ক্রাইম নিউজ এডিটর

আপনার মন্তব্য দিন

Share this post

scroll to top