৪ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু : কক্সবাজারে দু’লক্ষাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ

IMG_20191003_010844-696x917.jpg

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার ॥

আগামী ৪ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। আর এই উৎসবকে ঘিরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দু’লক্ষাধিক সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ। মণ্ডপে-মণ্ডপে আর ঘরে-ঘরে চলছে প্রস্তুতি। সেই সাথে প্রতিমা তৈরি শেষ, এখন তুলির শেষ আচড়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পীরা। এদিকে প্রতিমা তৈরি এবং মণ্ডপগুলোকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, “জন্মভুমি ও জগত মাতা”।

আশ্বিনের সাদা মেঘের ভেলা আর বিস্তীর্ণ পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা কাশফুলের দোলা-জানান দিচ্ছে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। ফলে দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় খড় আর মাটির মিশ্রণ বিমূর্ত হয়ে উঠছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমাগুলো।

রং তুলির ছোঁয়ায় বর্ণিল হয়ে উঠছে প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে জোরেশোরে। এবার প্রতিমা তৈরির অর্ডার মিলেছে বেশি। কিন্তু উপকরণের দাম বাড়ায় আগের মতো আর লাভ হয়না। তারপরও পূর্ব পুরুষদের পেশা ধরে রাখার পাশাপাশি সারা বছরের সংসার চালানোর খরচ তুলতে প্রতিমা শিল্পী ও কারিগর পরিবারের সবাই মিলে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

গত ২৯ সেপ্টেমম্বর শুভ মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন তথা দেবীপক্ষের। পুরাণমতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গা মহালয়ার দিন পা রাখেন মর্ত্যলোকে। তবে ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে মন্দিরে দুর্গামণ্ডপ তৈরিসহ সব ধরণের প্রস্তুতির কাজও জোরেশোরে চলছে। এদিকে দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্নে করতে ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির স্থান এবং মণ্ডপগুলোকে ঘিরে পুলিশের টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে ।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা বলেন, এবছর প্রতিমা ও ঘট মিলে জেলার ২৯৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা চলবে। পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে সব অত্যাচার-অনাচার থেকে রক্ষা পাওয়াসহ বিশ্ববাসীর কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা হবে দুর্গাপূজায়। পাশাপাশি অতীতের ন্যায় এবারও জেলাব্যাপি উৎসবমূখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করার জন্য সর্বস্তেরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট রনজিত দাশ বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলায় ২৯৬টি মন্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গোৎসব উদযাপনের সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে ।

পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম জানান-জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরি এবং মণ্ডপগুলোকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পোষাকধারী পুলিশ, আনসার, গোয়েন্দা পুলিশ দিয়ে প্রতিটি পুজা মন্ডপ আগলে রাখার পাশাপাশি বিসর্জনের দিন সৈকত এলাকায় অতিরি পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

আপনার মন্তব্য দিন

Share this post

scroll to top