1. engg.robel.seo@gmail.com : DAILY TEKNAF : DAILY TEKNAF
  2. bandhusheramizan@gmail.com : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  3. engg.robel@gmail.com : The Daily Teknaf News : Daily Teknaf
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাধ পুনঃনির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন এমপি শাওন। হোয়াইক্যং নয়াবাজারের মহিয়সী নারী শামসুন নাহারের ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদীর ইন্তেকাল শাহ্পরীর দ্বীপে হতদরিদ্রদের মাঝে(IOM)সংস্থার নগদ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ উদ্বোধন করেন নুর হোসেন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের মৃত্যুতে টেকনাফ উপজেলা রেন্ট-এ কার,নোহা,মাইক্রো মালিক সমবায় সমিতির শোক প্রকাশ ইসলামপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ সাংবাদিক শাহাজাহান শাহীন ভাল থেকো আব্বু টেকনাফে সাবরাং নয়াপাড়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অপহরণকারী সাইফুল ইসলামকে ধরিয়ে দিতে সাহায্য করুন আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে, ওসি টেকনাফ বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে আবুল কালামের গভীর শোক প্রকাশ।

অধ্যয়নরত’ আর ‘শিক্ষিত বেকার’ এর অর্থ না বুঝে জ্ঞানীর কথায় জ্ঞানপাপীদের অপব্যাখ্যা!

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

বার্তা পরিবেশক : অনেক আগের কথা। আমাদের গ্রামে এক বৃদ্ধ বধির লোক ছিলেন। তিনি এমন বধির ছিলেন যে, কানের পাশ দিয়ে মাইক বাজলেও ঠিকমত শুনতেননা! কেউ ওনার সামনে গিয়ে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করলে, ওনি উত্তর দিতেন, “ওয়ালাইকুমুচ্ছালাম!” অন্যের বলা আর নিজের বুঝার মধ্যে সমস্যা হলে যেমনটি হয়।

লেখাপড়া না জানা মায়ের উচ্চ শিক্ষিত ছেলে মৃত্যুশয্যায় তার মায়ের কাছে পানি চাইতে গিয়ে পানির পরিবর্তে ‘ওয়াটার, ওয়াটার’ বলে ব্যাপক আকুতি জানালেও মায়ের কাছে ‘ওয়াটার’ শব্দের অর্থ জানা ছিলনা বলে মৃত্যুর সময় ছেলেকে পানি পান করাতে না পারার মত হৃদয় বিদারক গল্পও আমরা শুনেছি। এটা নিছক-ই গল্প হলেও শব্দের অর্থ না বুঝার কারনে কখনোকখনো যে বড়সড় ট্র্যাজেডির জন্ম হয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আজ আমাদের সমাজের কিছু মানুষের অবস্থাও হয়েছে সেই নাফাইঙ্গা (বধির) বুইজ্জার মত! একজনে বলেন এক, আর ওনারা শুনেন আরেক। অন্যের বলা ভাল কথাগুলোকে বিকৃত করে ভিন্নভাবে প্রচার করাই তাদের স্বভাব। হতে পারে এটা তাদের অর্থ না বুঝার অজ্ঞতা কিংবা হতে পারে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

এই যেমন, অতিসম্প্রতি উখিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মানীত চেয়ারম্যান, উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছামুজিব মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সুযোগ্য সভাপতি জনাব অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ব্র্যাক এনজিও কর্তৃক আয়োজিত এক সভায় রোহিঙ্গাদের আগমনের পর এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তিনি স্কুল, কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বাদ দিয়ে অনভিপ্রেতভাবে চাকরীর প্রতি ঝুঁকে পড়ার যৌক্তিক বিরোধীতা করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ওনার মত একজন জ্ঞানীর কথাটি উখিয়ার কিছুসংখ্যক জ্ঞানপাপীদের জ্ঞানের অগভীরতার কারনে তাদের জ্ঞানইন্দ্রিয়ে অনুভূত হয়নি! তাঁর পুরো বক্তব্য থেকে ভাল কথাগুলোকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কিংবা অন্যকোন হীন স্বার্থে তাঁকে বিতর্কিত করতে কেবল অাংশিক উক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছেন এবং সেই সাথে সময়ের প্রয়োজনে তাঁর দেওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের মূল উদ্দ্যেশ্যকেও আড়াল করার প্রয়াস করছেন। যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উপর আরো বেশি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে সমালোচনা করার আগে একটিবার এটা ভাবা উচিত ছিল যে, বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তিটি কেবল একজন রাজনীতিবিদ কিংবা জনপ্রতিনিধি নন, তিনি একজন শিক্ষকও। তাই সঙ্গতকারনে শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যত সম্পর্কে তাঁর দরদ বেশি থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। কারন, একজন শিক্ষকের কাছে প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁর সন্তানতূল্য। তাই একজন শিক্ষক হিসেবে সেই সন্তানতূল্য শিক্ষার্থীর ভালমন্দ সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে।

কোন না কোনভাবে সম্মানীত উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের সেদিনের বক্তব্যের অাদ্যোপান্ত এবং বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তাই আমি হলফ করে বলতে পারি, তিনি সেদিন তাঁর বক্তব্যে এলাকার শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়দের চাকরীর প্রয়োজনীয়তার বিরোধীতা করে কোন বক্তব্য প্রদান করেননি। করেছেন, অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের চাকরী ব্যাপারে। তিনি এও অাশংকা প্রকাশ করেন যে, উখিয়ার বিভিন্ন স্কু্ল, কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার রিগুলারিটি নষ্ট করে কিংবা লেখাপড়া বাদ দিয়ে যে হারে এনজিও’র চাকরীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, তাতে করে কোন একসময় আমাদের উখিয়া মেধাশূণ্য হয়ে যেতে পারে। তাই তিনি নিজ এলাকাকে মেধাশূণ্য হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে অধ্যয়নরত কোন ছাত্র-ছাত্রীকে চাকরীতে না নিতে কিংবা এমন কেউ চাকরীতে থাকলে তাদের ছাটাই করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু যারা তাঁর এই সময়োপযোগী বক্তব্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করছেন, তাদের কেউ কি যুক্তি দিয়ে বলতে পারবেন, তাঁর এই কথা অযৌক্তিক? স্কুল, কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অসময়ে চাকরীর পেছনে না ঘুরে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হতে বলাটা কি তাঁর অপরাধ ছিল? যাদের কাছে তাঁর এই সময়োপযোগী বক্তব্য এলাকার স্বার্থ বিরোধী বলে মনে হয় আমার কাছে তাদেরকে বরং এলাকার বর্তমান এবং ভবিষ্যত শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অদূরদর্শী বলে মনে হয়। কেননা, রোহিঙ্গা আসার পর থেকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার রিগুলারিটি ভঙ্গ করে যেভাবে এনজিওর অস্থায়ী চাকরীর পেছনে সময় দিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার এবং সম্ভাবনাময়ী ভবিষ্যত নষ্ট করছে, তাতে তাঁর সাথে সুর মিলিয়ে বলতে হয়, অদূরভবিষ্যতে আমাদের এলাকা সত্যিই মেধাশূণ্য হয়ে যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে উদ্বেগজনকভাবে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত যে অন্ধকার সেকথা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আপনার মন্তব্য দিন
এ জাতীয় আরো খবর..