1. engg.robel.seo@gmail.com : DAILY TEKNAF : DAILY TEKNAF
  2. bandhusheramizan@gmail.com : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  3. engg.robel@gmail.com : The Daily Teknaf News : Daily Teknaf
আপনি কি কুরআন পড়েন ? মাসুদ খাঁন - ডেইলি টেকনাফ
শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাবরাং ইউ,পি ছাত্রলীগের সাঃসম্পাদক নজরুল ইসলামের খোলা চিঠি টেকনাফে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা,আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিবাদ ও নিন্দা টেকনাফ উপজেলা আ.লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব এজাহার মিয়ার নববর্ষের শুভেচ্ছা সাবরাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালামের নতুন বছরের শুভেচ্ছা অসুস্থ ছেনোয়ারার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দান করলেন টেকনাফ পৌর মেয়র হাজ্বী মোহাম্মদ ইসলাম ঈদগাঁওতে সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে দুই বাংলা অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের মানববন্ধন টেকনাফ পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাড়ে ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প পরিদর্শন করেন শেখ মুজাক্কা জাহের বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে ২লাখ ৭০হাজার ইয়াবাসহ ট্রলার জব্দ সাবরাং ইউনিয়ন কৃষকলীগের ১-৯ ওয়ার্ডের কমিটি অনুমোদন সভা সম্পন্ন টেকনাফে র‍্যাবের গুলিতে রোহিঙ্গা মাদক কারবারীর প্রাণহানি

আপনি কি কুরআন পড়েন ? মাসুদ খাঁন

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

কিছু দিন আগে, আমি কুরান এবং ইসলামের উপর ইংরেজিতে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলাম। কিছু পাঠকের অনুরোধ করাতে আমি আবার পোস্টটি বাংলায় দিচ্ছি।

“আপনি কি কুরআন পড়েন?” চলমান লকডাউন চলাকালীন সময়ে ভাল বই পড়ার মাধ্যমে সময়কে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে সম্পর্কিত আমি যে সর্বশেষ পোস্টটি দিয়েছিলাম তার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্নটি আমার দিকে বিনা মেঘে বজ্রপাথ এর মতো ফেরত এসেছে। প্রশ্নটি এই কারণেই আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে যে পরোক্ষভাবে আমার ধর্মীয় বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে পবিত্র কুরআনের প্রয়োজনীয় বার্তা এবং সর্বোপরি ইসলাম কী তা নিয়ে একটি পোস্ট লিখতে বাধ্য হয়েছি।

প্রথমেই আমি শুরু করতে চাই এই বলে যে, আমি কোন ধর্মীয় পণ্ডিত নই এবং এমন কোন ব্যক্তিও নই যে ইসলাম নিয়ে বিস্তুৃত গবেষণা করেছি। আমাকে আগ্রহী করে তোলে এমন সব বিষয়ে জানতে আমি খুবই আগ্রহী এবং মহান ধর্ম হিসেবে ইসলাম সর্বদাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। কয়েক বছর ধরে আমি লক্ষ্য করেছি যে বেশিরভাগ মুসলমান পবিত্র কুরআনের কেন্দ্রীয় বা মূল বার্তা সম্পর্কে মৌলিক ধারনা তো অনেক দূরে, কুরআনের যে বৃহৎ চিত্র সেটিই মিস করে যান। যতটুকুই মূল্যবান হোক, আমি আমার পোস্টগুলিতে বিনীতভাবে আমার মতামত প্রচার করতে চাই এটা জেনেই যে হয়তো আমার ভুল হতে পারে। আল্লাহ ভাল জানেন এবং তিনেই আমার আমার বিচার করবেন আমার এই প্রচেষ্টা নিয়ে।

প্রথমত, কেউ খুব সহজেই কুরআন পড়তে পারে না। এটি এমন কোন উপন্যাস নয় যে অবসর সময়ে পড়া যায়। আল্লাহ সুরা আল ইমরান-এর সাত নম্বর আয়াতে বলেছেন যে, তিনি দুই ধরনের সুরা নাজিল করেছেন, যার কিছু কিছুর আক্ষরিক অর্থ রয়েছে এবং কিছু কিছুর রূপক অর্থ রয়েছে। এ কারণেই গত কয়েক হাজার বছর ধরে আমাদের কাছে বিদ্বানগণের অসংখ্য তাফসীর রয়েছে, প্রত্যেকেরই আলাদা রূপক অর্থ বা আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে সবশেষে সবাই একটিই দাবি করেছেন যে, আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

“আফ আলা তাআকেলুন” শব্দটি কুরআনে ৫০ বারেরও বেশি উল্লেখ রয়েছে যার অর্থ “আপনার কি কোনও যুক্তি নেই?” কুরআনের বেশিরভাগ আয়াত নিয়ে গবেষণা ও চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে। কুরআনে আল্লাহ যা কিছুই বলেছেন তার পিছনে যুক্তি ও কারণ রয়েছে।

সুতরাং, কেবল কুরআন পড়েই যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ যে সত্যিকারের বার্তাটি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন এবং বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানো এই বিষয়টি বোঝা।

কুরআন হলো জ্ঞানের সমুদ্র, তা হতে পারে বিজ্ঞান, দর্শন, জ্যোতিষ, সংখ্যাতত্ত্ব, সামাজ বিজ্ঞান বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান। এটি এতটাই ব্যাপক যে আমরা অতল গহ্বরে নিমজ্জিত। অন্য কোনও গ্রন্থের মতো এর কোনও সূচনা বা শেষও নেই যা আমার মতেএই মহাবিশ্বের জীবনের নিরবচ্ছিন্নতার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। যাইহোক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই যে কুরআন আমাদের এই পৃথিবীতে জীবনযাত্রার এবং পরকালের জন্য আমাদের কী করতে হবে সে সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয় । এবং এর মধ্যে নিখুঁত সুখ নিহিত আছে।

আমরা এখন প্রার্থনা এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের প্রশ্নে আসি। আমার মতে এটি একটি ভুল ধারণা যে আমরা যদি ইসলামের যে পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে, যার মধ্যে নামাজ একটি, সেগুলো প্রতিপালক করি তাহলেই বেহেশ্তে চলে যাব। কুরআনে নামাজ বা সালাত আদায় করার বিষয়ে ৭০০ বার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ পাবলিক পরিবহনে আমরা “নামাজ বেহেশ্তের চাবি” লেখা দেখতে পাই। আমরা যেটি বুঝতে ব্যর্থ হই যে নামাজ কোনও সাধারণ রীতি নয়। নামাজই কেবল শেষ কাজ নয়, এটি আমাদের ভাল কাজের নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করা উচিত। এটাই প্রার্থনার সারমর্ম।

এ কারণেই আল্লাহ সুরা বাকারাহর ১৭৭ নম্বর আয়াতে সুস্পষ্টরূপে নিম্নলিখিত বার্তাগুলো দিয়েছেন:

ধার্মিকতা এমন নয় যে আপনি পূর্ব বা পশ্চিমে আপনার মুখ ঘুরিয়েছেন তবে সত্য ধার্মিকতা রয়েছে

– যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশ্তাগণ, কিতাব এবং নবীগণের উপর ঈমান আনে

– এবং আত্মীয় স্বজন, এতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থীগণের এবং বন্দী মুক্তির জন্য ধন-সম্পদ ভাল না বেসে খরচ করে

– এবং যাঁরা নামাজ আদায় করে, নিজেদের অঙ্গীকার পূর্ণ করে, যাকাত দেয় এবং দারিদ্রে, কষ্টে এবং যুদ্ধকালে ধৈর্যশীল থাকে।

আমি এই পোস্টের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ আয়াতগুলোর ডায়াগ্রাম দিয়েছি যা আমার মনের কাছে পবিত্র কুরআনের অন্যতম মূল বার্তা এবং ইসলাম কী। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই আমার কাজিন ফারুককে যে বর্তমানে জেদ্দা থাকে এবং সে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৫০০ ইসলামী চিন্তাবিদের মধ্যে একজন।

কুরআনে যে কয়েকটি বার্তা বেশিবার দেয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নামাজ পড়া, যাকাত আদায় করা এবং সাদাকাহ আদায় করা। সাদাকাহ শব্দটি কুরআনে উল্লেখিত যাকাতের বিস্তৃত ধারণার সাথে অবিচ্ছেদ্য। অনেক ধর্মীয় পণ্ডিত মতামত দিয়েছেন যে পবিত্র কোরআনের বর্ণিত দৃষ্টান্তগুলিতে যাকাত সব ধরণের মানবিক কাজকে বোঝায়।

যদিও যাকাত একটি বাধ্যতামূলক কাজ, তবে এটি সাদাকাহের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যা আর্থিক বা অ-আর্থিক সমস্ত ভাল কাজের সাথে অন্তর্ভুক্ত। আমরা যদি রাসূল (সাঃ) এর সুন্নত পালন করি, তবে এটা স্পষ্ট যে সমস্ত ভালো কাজ যেমন প্রতিবেশীকে সাহায্য করা, অন্ধকে রাস্তা অতিক্রম করানো, এতিম ও বিধবাদের যত্ন নেওয়া, পরিবারের সাথে সময় কাটানো, প্রতিকূলতায় ধৈর্যশীল হওয়া, অন্য কথায় যে কোনও ধার্মিকতা বা সৎকর্ম সাদাকাহ হিসাবে বিবেচিত হয়।

পবিত্র কুরআনে প্রায় ১০০ টি কেন্দ্রীয় বার্তা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্যের অধিকার চুরি না করা, মিথ্যা না বলা, ন্যায়বিচারক হওয়া ও ন্যায়বিচার করা, পরনিন্দা না করা, ঘুষ না নেওয়া, বাবা-মায়ের প্রতি অনুগত হওয়া, অহংকারী না হওয়া, অন্যকে ক্ষমা করা, কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করা, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া, সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রণ না করা, অপচয় রোধ করা, ধর্মীয় বিশ্বাসে বাড়াবাড়ি এড়ানো, সুদ না দেওয়া, কৃপণতা না করা ইত্যাদি। আমরা এগুলো সবই জানি এবং তবুও আমরা এগুলো এড়িয়ে চলছি বা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করছি। যারা আগ্রহী তাদের জন্য আমি তালিকাটি সংযুক্ত করেছি।

দুর্ভাগ্যক্রমে, বাংলাদেশে, বেশিরভাগ লোকেরা ইসলাম অনুশীলন না করে কেবল আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করে। আমরা প্রায়শই শুনি যে লোকেরা নামাজ শেষ করার সাথে সাথে বা হজ থেকে ফিরে আসার পরপরই ঘুষ নিচ্ছে। এটি কেবল ইসলামের প্রতি বিদ্রূপতা। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশ ইসলামের চর্চায় বিশ্বে ১৪৬ তম স্থান অর্জন করেছে দেখে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

সুতরাং, আমার মতে ইসলাম হলো সর্বশক্তিমানের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ, প্রয়োজনের সময় তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং ভাল সময়ে তাঁকে স্মরণ করা, এমন প্রার্থনা করা যা আমাদেরকে সমাজের জন্য ভাল করে এবং উপরের নির্দেশিকা অনুসরণ করে এই পৃথিবীতে একজন উত্তম ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া।

আমি আমার দীর্ঘ পোস্টটি শেষ করার আগে একটি চূড়ান্ত নোট দিয়ে যেতে চাই। কুরআনের প্রথম সুরায় যে ৯৬টি “আলাক” নাযিল হয়েছিল যে, আল্লাহ সেখানে আমাদের প্রথম আয়াতে পড়ার জন্য বলেছেন। সেটি শুধুমাত্র কুরআন নয়, জ্ঞান বৃদ্ধি করে এমন সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞানের দ্বারা দেখতে পেলেন যে জ্ঞানই হলো সভ্যতার অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি এবং আমরা একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজে পরিণত হতে পারি।

আজকের বিশ্বে আমরা ঠিক দেখতে পাচ্ছি যে সবকিছুর উপরেই জ্ঞানের মূল্য। প্রকৃতপক্ষে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমেই আমরা এখন যে অসংখ্য উন্নত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান উপলব্ধি করতে শুরু করেছি তা ১৪০০ বছর আগে কুরআনে উদ্বৃত করা হয়েছে।

এর সর্বোত্তম উদাহরণ হলো রোযার মাধ্যমে অটোফেজির যে প্রক্রিয়া তা সম্প্রতি জাপানের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন। সংক্ষেপে, আমরা যখন রোযা রাখি তখন দেহ নিজেই খাওয়া শুরু করে এবং সমস্ত মৃত কোষগুলি বর্জ্য হিসাবে আলাদা করে ফেলে এবং নতুন অণু তৈরি করে। এর ফলে শরীর গুরুতর অসুস্থতা এড়াতে সহায়তা করে।

এর আরেকটি উদাহরণ ৯৬ নম্বর সূরা “আলাক”-এ আল্লাহ গ্রাফিকালি বর্ণনা করেছেন যে কীভাবে একটি মানব শিশু জন্মগ্রহণ করে। কেবল ৩০ বছর আগে মানবজাতি ভ্রূণতত্ত্ব অধ্যয়নের মাধ্যমে এই জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

কুরআনে আরও অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে যা প্রথম ফরাসী বিজ্ঞানী মরিস বুকাইল প্রকাশ করেছিলেন, যিনি পরবর্তীতে কুরআন, বাইবেল এবং বিজ্ঞান নামে একটি বই লিখেছিলেন। বছরের পর বছর ধরে গবেষকরা এ জাতীয় আরও অনেক তথ্য আবিষ্কার করেছেন। আপনি ওয়েবে এই সবগুলি তথ্য পেতে পারেন।

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আল্লাহ হাফেজ।

লেখক:

Masud Khan

The Chairman of Glaxosmithkline

Bangladesh limited.

আপনার মন্তব্য দিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..