1. engg.robel.seo@gmail.com : DAILY TEKNAF : DAILY TEKNAF
  2. bandhusheramizan@gmail.com : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  3. engg.robel@gmail.com : The Daily Teknaf News : Daily Teknaf
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চকরিয়ায় যাত্রীবাহি নাইট কোচে ডাকাতি : গুলিবিদ্ধ-১৫,আহত ৩ একজন শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধার ইতি কথা টেকনাফের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সমসাময়িক ভাবনা টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাধ পুনঃনির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন এমপি শাওন। হোয়াইক্যং নয়াবাজারের মহিয়সী নারী শামসুন নাহারের ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদীর ইন্তেকাল শাহ্পরীর দ্বীপে হতদরিদ্রদের মাঝে(IOM)সংস্থার নগদ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ উদ্বোধন করেন নুর হোসেন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের মৃত্যুতে টেকনাফ উপজেলা রেন্ট-এ কার,নোহা,মাইক্রো মালিক সমবায় সমিতির শোক প্রকাশ ইসলামপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ সাংবাদিক শাহাজাহান শাহীন ভাল থেকো আব্বু

ঈদে এক কিশুরের নতুন জামার গল্প!!

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৩ জুন, ২০১৯

শাহ্ মুহাম্মদ রুবেলঃরোজা ২০টা পার হলে পাড়ার বন্ধুদের সবার ঈদের জামা কাপড় কেনাকাটা শুরু হয়ে যেত। খেলার মাঠে এসে সবাই সবার নতুন জামার ধরন আর দাম নিয়ে আলাপ আলোচনা করত। বিকেলে মাঠে খেলতে এসে এক বন্ধুর মুখে নতুন জামার কথা শুনলাম। আমি তো অবাক। ধুর! তাও হয় নাকি! আরও কয়েকজনের মুখে ওই জামার কথা শুনলাম। এবার আর বিশ্বাস না করে উপায় নেই।

আমার মনে আছে আমি কখনো কোনো কিছুর জন্য মা-বাবার কাছে জেদ করিনি। কী করে কী হলো জানি না, ওই নতুন জামাটা পেতে আমার খুব ইচ্ছে করল। সোজা মার কাছে গিয়ে জানান দিলাম, আব্বা যেন আমার জন্য ওই জামাটা কিনে আনেন। সন্ধ্যায় মা আব্বাকে আমার জামার বিষয়ে বললেন, ‘দেখো তো কিছু করা যায় কিনা।’ আব্বা নিশ্চুপ। আমার ছোট্ট মনটা বুঝত না, নতুন জামা কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই। আমি প্রতিদিন একটু পরপর আব্বার কাছে গিয়ে জামার জন্য ঘ্যানঘ্যান করতাম। আব্বা প্রথমদিকে স্বাভাবিক থাকলেও শেষমেশ খুব বিরক্ত হলেন। ২৫ রোজার দিনে আব্বা আমাকে আচ্ছামতো মার দিলেন। ভাবলেন, মার খেয়ে আমি বুঝি জামার জন্য তাঁকে আর বিরক্ত করব না! আমি সেদিন খুব কেঁদেছি। আমার সঙ্গে মা-ও কেঁদেছেন। আমি আরও কেমন যেন হয়ে গেলাম। আমার এই জামা চাই, চাই, চাই।

রোজ আব্বাকে আগের মতোই বিরক্ত করি। ২৮ রোজার দিনে আব্বা বাজারে নিয়ে গেলেন। আমি তো মহাখুশি। আজকে আমাকে পায় কে! আমার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। নতুন জামা পরে ঈদের সারা দিন ঘুরে বেড়াব। সারা বিকেল এই দোকান, সেই দোকান করে সন্ধ্যা হয়ে এল প্রায়। আব্বা বললেন, ‘আজকে বরং থাক, কাল ঠিক তোর জামা কিনে দেব।’ আমি ঘাড় কাত করে সম্মতি জানিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। মাগরিবের নামাজের পর সারা পাড়া হই হই রব—চাঁদ উঠেছে, চাঁদ উঠেছে।

সেবার রোজা ২৯টা হয়েছিল। আমি যেন বোবা হয়ে গেলাম। কাঁদলাম না, আব্বার কাছে জামার জন্য আবদার করলাম না। চাঁদ উঠেছে। কাল ঈদ। আজকে হাটও শেষ। আমি অসাড় হয়ে শুয়ে রইলাম। চোখের কোণ বেয়ে শুধু পানি গড়িয়ে পড়ছে। মা এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে গেলেন। রাতে কিছু খেলামও না। কাঁদতে কাঁদতে কখন ঘুমিয়ে পরেছি, জানি না।

সকালে ঘুম ভাঙল। আমার চোখ তো ছানাবড়া। আমার মাথার কাছে একটা নতুন জামা। হাতে নিয়ে দেখলাম, ওরে বাবা! উঁহু, আজকে না ঈদ! এই নতুন জামা গায়ে দিয়ে সারাদিন ঘুরব, কত আনন্দ করব। আমার খুশি দেখে মা ডুকরে কেঁদে উঠলেন। মাস কয়েক আগে বড় মামা মাকে একটা শাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। মা সেটা যত্ন করে তুলে রেখেছিলেন। কোথাও বেড়াতে গেলে তখন শুধু পরতেন। মায়ের সেই শাড়িটা কেটে সারা রাত জেগে আমার জন্য জামাটা সেলাই করেছেন।

মায়ের কান্না দেখে আমার চোখেও পানি চলে আসে। আমি দুই চোখ ভরা পানি নিয়ে গাল ভরে হাসছি তো হাসছি।

এ আমার জীবনের এক চিরসত্য গল্প। মা এখনো সেই গল্প করেন আর কাঁদেন। আমরা ভাই বোনেরা শুনি। আজও ঈদ আসে। এখন নতুন জামা গায়ে দিতে পারি না। কোত্থেকে একটা কষ্ট এসে চাপা দিয়ে ধরে। কিন্তু আপনজনদের গায়ে নতুন ঝলমলে পোশাক দেখে মনটা ঠিকই আনন্দে ভরে ওঠে।

কথাগুলো বলছিলেন এক কিশোর (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)

আমার মন্তব্যঃ বাথরুমে গিয়ে অনেকক্ষণ ধরে নিরবে কিছুক্ষন কাঁদলাম কারন আমাদের এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রত্যেকেরি জীবনেই ঈদের খুশির এই স্মৃতি কোনো না কোনো ভাবেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে যা গল্পগুলো পড়ার পর মহাকালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই স্মৃতি গুলো খানিক ক্ষণের জন্য মনের গহীনে উল্টোবেগে এসে এক ভীষণ নাড়া দিয়ে গেলো…

আপনার মন্তব্য দিন
এ জাতীয় আরো খবর..