1. engg.robel.seo@gmail.com : DAILY TEKNAF : DAILY TEKNAF
  2. bandhusheramizan@gmail.com : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  3. engg.robel@gmail.com : The Daily Teknaf News : Daily Teknaf
কক্সবাজার জেলার দুই লক্ষাধিক জেলে পরিবারে হাহাকার - ডেইলি টেকনাফ
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঢাকা-১৪ আসনের এমপি আসলামের মৃত্যুতে সাবেক এমপি বদি’র শোক প্রকাশ লকডাউন অমান্য কারিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে টেকনাফ উপজেলা প্রসাশন Inauguration of office of Scrap Business Association in Teknaf in collaboration with Practical Action পাঠক শুনবেন কি? টেকনাফে প্রাকটিক্যাল এ্যাকশনের সহযোগিতায় স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী সমিতির অফিস উদ্বোধন দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সাবেক এমপি বদি দেশ’বাসীর কাছে দোয়া কামনা টেকনাফ সদর মৌলভী পাড়ার জোসনা বেগম গত ৫দিন ধরে নিখোঁজ,অভিযুক্ত রিয়াজের সন্ধান পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা টেকনাফে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১১ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা আদায় জনসমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করলেন নুর হোসেন চেয়ারম্যান টেকনাফে ৯৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

কক্সবাজার জেলার দুই লক্ষাধিক জেলে পরিবারে হাহাকার

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

জসিম মাহমুদ:: বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের কারণে দুশ্চিন্তায় কক্সবাজারের দেড় লক্ষাধিক জেলে। নিবন্ধিত ৪৮ হাজার জেলে খাদ্য সহায়তার আওতায় আসলেও বাকিরা পাচ্ছেন না কোন সরকারি সহায়তা। সংশ্লিষ্টদের দাবি; করোনা পরিস্থিতিতে অনিবন্ধিত জেলেদেরও সরকারি সহায়তা দেয়া হোক। অবশ্য, অনিবন্ধিত জেলেদেরও সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে চাহিদা প্রেরণ হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।

সাগরে ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধ; তাই কক্সবাজার উপকূলে ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। আর এসব ট্রলারে বসে অলস সময় পার করছেন জেলেরা। কিন্তু সবারই চোখে মুখে রয়েছে দুশ্চিন্তা।

বেশ কয়েকজন জেলের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের কারো কাছে নেই কোন জেলে কার্ড। তাই পাবে না সরকারি খাদ্য সহায়তা। আবার যাদের জেলে কার্ড রয়েছে তারাও নাকি পান না এই সরকারি খাদ্য সহায়তা। তার উপর নতুন করে যুক্ত হয়েছে করোনা পরিস্থিতি।

৬ নম্বর ঘাট এলাকায় নোঙর করা এফবি আল্লাহ দান নামে মাছ ধরার ট্রলার। কথা হয় ওই ট্রলারের মাঝি ইলিয়াছ এর সাথে। ইলিয়াছ বলেন, গত ১০ বছর ধরে সাগরে মাছ শিকার করছি। কিন্তু এখনো জেলে কার্ড হয়নি। যখন জেলে কার্ড করতে গিয়েছিলাম, তখন মেম্বার-চেয়ারম্যানরা বলেছে জেলে কার্ড দেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু দেখেছি যারা জেলে না তারা জেলে কার্ড পেয়েছে। আর আমরা যারা প্রকৃত জেলে তারা জেলে কার্ড করতে পারেনি।

কথা হয় এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে শুক্কুর আলী সাথে। তিনিও বলেন, গতবছরও কোন সরকারি খাদ্য সহায়তা পায়নি; এবছরও পাবো কিনা তা জানিনা। এখন খুবই দুশ্চিতায় রয়েছি।

আরেক জেলে রহিম বলেন, ১৬ বছর ধরে সাগরে মাছ শিকার করলেও এখনো কোন ধরণের জেলে কার্ড পায়নি। গতবছর বন্ধের সময় সরকারি কোন খাদ্য সহায়তা পায়নি। আমাদের একেকটি ট্রলারে প্রায় ১৭ থেকে ২০ জন পর্যন্ত জেলে আছে। কিন্তু এবছরও এখনো অবধি কোন সহায়তা পায়নি।

টুলুর ঘাট এলাকায় নোঙর করা আছে আবছার উদ্দিন এর মালিকাধীন দুটি ট্রলার। আবছার উদ্দিন বলেন, আমার দুটি ট্রলারে প্রায় ৪০ জন জেলে রয়েছে। এই ট্রলার দুটির কোন মাঝি কিংবা জেলে সরকারিভাবে ১০ কেজি চাল কিংবা কোন নগদ অর্থ পেয়েছে বলে শুনেনি। কিন্তু জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা আসে সেটা তো আমরা সবাই শুনি। তারপরও কেন এই বন্ধের সময় জেলেরা খাদ্য সহায়তা পায় না?
কক্সবাজারে দুই লক্ষাধিক জেলে থাকলেও সাগরে ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধের এই সময়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক জেলে সরকারি খাদ্য সহায়তা পান না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, কক্সবাজারে দুই লক্ষাধিকের বেশি জেলে রয়েছে। তারমধ্যে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে মাত্র ৪৮ হাজার। বাকি কিন্তু এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে। বাকিদের জেলেদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য বার বার সরকারি দপ্তরগুলোকে তাগাদা দিলেও এখনো পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় আনেনি। যার ফলে একদিকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, অন্যদিকে করোনা ভাইরাস; এই দুই পরিস্থিতি নিয়ে জেলেরা খুব দুশ্চিতায় রয়েছে। তাই সরকারের কাছে দাবি থাকবে, দ্রুত যাতে অনিবন্ধিত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় এনে সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

অবশ্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, জেলেদের নিবন্ধন প্রক্রিয়াটা একটা প্রজেক্টের মাধ্যমে ছিল, যেটা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৪৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। তাদের খাদ্য সরবরাহটা সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। এর বাইরেও যে লক্ষাধিক জেলে রয়েছে তারাও যাতে সরকারি খাদ্য সহায়তা পায় তারজন্য সরকারের কাছে চাহিদাপত্র প্রেরণ হবে।

কক্সবাজারের ৮টি উপজেলায় ছোট-বড় মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে ১০ হাজারের অধিক। আর এসব ট্রলারে করে সাগরে মাছ শিকার করে দুই লক্ষাধিক জেলে।

সুত্র:টেকনাফ নিউজ

আপনার মন্তব্য দিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..