1. engg.robel.seo@gmail.com : DAILY TEKNAF : DAILY TEKNAF
  2. bandhusheramizan@gmail.com : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  3. engg.robel@gmail.com : The Daily Teknaf News : Daily Teknaf
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাধ পুনঃনির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন এমপি শাওন। হোয়াইক্যং নয়াবাজারের মহিয়সী নারী শামসুন নাহারের ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদীর ইন্তেকাল শাহ্পরীর দ্বীপে হতদরিদ্রদের মাঝে(IOM)সংস্থার নগদ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ উদ্বোধন করেন নুর হোসেন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের মৃত্যুতে টেকনাফ উপজেলা রেন্ট-এ কার,নোহা,মাইক্রো মালিক সমবায় সমিতির শোক প্রকাশ ইসলামপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ সাংবাদিক শাহাজাহান শাহীন ভাল থেকো আব্বু টেকনাফে সাবরাং নয়াপাড়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অপহরণকারী সাইফুল ইসলামকে ধরিয়ে দিতে সাহায্য করুন আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে, ওসি টেকনাফ বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে আবুল কালামের গভীর শোক প্রকাশ।

টেকনাফে লবনের মূল‍্য উৎপাদন খরচের অর্ধেক হওয়ায় চাষীরা হতাশ।

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০
সাবরাং আছারবনিয়া লবনের মাঠে চাষীদের উৎপাদনের দৃশ‍্য

[হাজার হাজার মণ লবন মজুদ পড়ে আছে,ক্রেতা নেই]


মিজানুর রহমান মিজান 

টেকনাফ উপজেলায় কয়েক’শ হেক্টর জমিতে লবনের চাষ করে আসছে স্থানীয় চাষীরা।প্রাকৃতিকভাবে নোনা জ্বল আর সুর্য‍্যের তাপে উৎপাদিত এ অঞ্চলের লবণ চাষ, উন্নতমানের লবণ উৎপাদনের জন‍্য সারাদেশে রয়েছে সুনাম ও ব‍্যাপক পরিচিতি।বিগত ২০১৯ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে টেকনাফে লবণ উৎপাদন শুরু করে চাষিরা। এই উপজেলায় প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জমি থেকে লবণ উৎপাদন করা হয়।বিগত মৌসুমে শুধু টেকনাফ উপজেলায় ১ লক্ষ সাড়ে ১৪ হাজার টন লবণের চাহিদা পূরণ করেছে। এসময় সরকার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মণ লবণ উৎপাদিতও হয়েছে।
উপজেলার হ্নিলা,রঙ্গীখালি,সাবরাং,শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় লবনের মাঠ পরিদর্শন করে এবং লবনের মাঠ মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়-লবন চাষের জন‍্য অনেকে টাকার মূল‍্যে মাঠ জমিন ভাড়া নিয়ে ওন্সিপ্রাং জিম্মনখালী ও দুরের এলাকা থেকে মাঠ কর্মীদের চুক্তির মাধ‍্যমে কাজ করান।চলতি মৌসুমে লবনের উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হওয়াতে চাষীদের মাঝে আনন্দ থাকলেও লবনের চাহিদা না থাকাতে এখন সকলের মাথায় হাত।খোজ নিয়ে জানা যায় অনেক মাঠ চাষিদের হাজার হাজার মন লবন মজুদ পড়ে আছে কিন্তু ক্রেতা না থাকায় লোকসান সামাল দিতে সকলের মাঝে অজানা শঙ্কায় দিন গুনতে হচ্ছে।
সারাদেশে লবনের দাম হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় টেকনাফের লবন চাষিরা ও পড়েছে বিপাকে।সাবরাং দক্ষিন নয়া পাড়ার লবন ব‍্যবসায়ী কাদের হোসাইন ও আছার বনিয়ার সব্বির আহমদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে জানান-পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে লবণের আমদানী থাকায় এবং কতিপয় অসাধু মিল মালিকদের ষড়যন্ত্রের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।বিশিষ্ট লবন ও গরু ব‍্যবসায়ী মোঃ শরীফ মেম্বার দেশের বড় বড় লবন মওজুদকারী মিল মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করে বলেন- গত কয়েক বছর ধরে সু-কৌশলে অসহায় ঋণগ্রস্ত লবন চাষিদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরী করে লবনের দাম কমিয়ে দেয়।এতেকরে চাষীও মালিকদের লোকসানের বুঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
আরও জানান-আমরা লবন উৎপাদনের জন‍্য লোক ও মাঠে যে টাকা বিনিয়োগ করেছি এখন উৎপাদিত মজুদ থাকা লবন বিক্রি করে সেই টাকা উঠানো কোনভাবে সম্ভব না,যার কারণ উৎপাদন খরচের সাথে বিক্রি মূল‍্যের অনেক তফাৎ বা অর্ধেকের চেয়েও কম।
এর প্রভাব পড়েছে বহনকারী বা ট্রান্সপোর্ট সেক্টরে।সাবরাং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার সংলগ্ন বাজারের ট্রাক সরবরাহকারী মোহাম্মদ হামিদ হোসেন জানান-লবনের দাম বা চাহীদা কম হওয়াতে ট্রাক ভাড়াও আগের মতো নেই এবং এ কাজে কর্মরত শত শত লোক এখন বেকার অলস সময় পার করছে।

মাঠ পর্যায়ে খোজ নিয়ে  জানা যায়-ব‍্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে টাকা ঋন গ্রহন করে বিনিয়োগ করেছে,গত কয়েক মৌসুমের মধ‍্যে চলতি সময়ের লবনের মূল‍্য আশাতীত হ্রাস পাওয়ায় এবং বিক্রি চাহিদা না থাকায় ব্যাংকের ঋন শোধের অনাকাঙ্ক্ষিত টেনশন ও মানসিক চাপে দিনাতিপাত করছেন ব‍্যবসায়ীরা।দেখা যায় তাদের চোখে মুখে এখন শুধু লবনের মূল‍্য বৃদ্ধির সু-সংবাদের অপেক্ষা।

গত কয়েক বছর থেকে লবনের সঠিক ও ন‍্যায‍্য মুল্যের দাবীতে বিভিন্নভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও এর সুফল থেকে এখনও বঞ্চিত আছেন বলে জানান মাঠপর্যায়ের লবন চাষি ও মালিকরা।তারা আরও জানান- প্রতিবছর একটি অসাধু চক্র পাশ্ববর্তি দেশ থেকে লবণ আমদানি করে দেশীয় লবণ শিল্পের অভাবনীয় ক্ষতি করে যাচ্ছে,যা এই অঞ্চলের লবন শিল্পের ভবিষ্যতের জন‍্য অশনিসংকেত বয়ে আনবে।

সরেজমিনে কয়েকটি লবনের মাঠ ঘুরে দেখা যায়-উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালি এবং টেকনাফ নাফনদী সংলগ্ন এলাকা সাবরাংয়ের আছার বনিয়ার ওয়াপ্রিডিয়া ও শাহপরীর দ্বীপ ভাঙা বড় বিলে ২ হাজার একর জমিতে পড়ে আছে উৎপাদিত শত শত মন লবনের স্তুপ। প্রতিটি স্তূপে ৪০-৫০ মণ করে লবণ রয়েছে।

এছাড়াও টেকনাফ সদর, হোয়াইক্যং ও শামলাপুর ইউনিয়নে আরও দেড় হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের খবর পাওয়া যায়।উপজেলায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন করা প্রায় ৮ শত মণ লবণ মাঠে স্তুপাকারে পড়ে আছে।শুধু সাবরাং ইউনিয়নে লবন মাঠ গুলোতে পড়ে আছে প্রায় ২৫০ হাজার টন লবন।তাই টেকনাফ উপজেলার ঋণগ্রস্ত লবন চাষিরা উৎপাদন খরচের অর্ধেকের চেয়ে কম মূল‍্য হওয়াতে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।এই অঞ্চলের অন‍্যতম জীবিকা উপার্জনের ক্ষেত্র লবন শিল্পকে বাচাতে এবং চাষীদের দুঃখ দূর্দশার কথা আমলে নিয়ে এ সমস্যা নিরসনে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সম্মিলিত সকল লবন চাষী,ব‍্যবসায়ীও মালিকরা।।

ডিটি/এমআরএম/মিজান

আপনার মন্তব্য দিন
এ জাতীয় আরো খবর..