1. engg.robel.seo@gmail.com : DAILY TEKNAF : DAILY TEKNAF
  2. bandhusheramizan@gmail.com : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  3. engg.robel@gmail.com : The Daily Teknaf News : Daily Teknaf
স্বামী স্ত্রী দু'জনই সার্জেন্ট,কিবরিয়ার মৃত্যুতে তছনছ সুখের সংসার ! - ডেইলি টেকনাফ
সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে সাবেক এমপি বদি’র শোক! প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে নুর হোসেন চেয়ারম্যানের শোক কক্সবাজারে কাউন্সিলর কাজি মোরশেদ আহমদ বাবুর মৃত‍্যুতে নুর হোসেন চেয়ারম্যানের শোক প্রকাশ ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কক্সবাজারসহ টেকনাফের লবণ চাষীরা টেকনাফে সাবরাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত অমর একুশের ভাষা শহীদদের প্রতি নুর হোসেন চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রতি হিংসা নয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসুক তৃণমূলের অবহেলিত নতুন নেতৃত্ব: শাওন আরমান টেকনাফে বিজিবির মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন টেকনাফ পৌরসভায় মূলধন বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রস্তুতি কর্মশালা সভা অনুষ্ঠিত

স্বামী স্ত্রী দু’জনই সার্জেন্ট,কিবরিয়ার মৃত্যুতে তছনছ সুখের সংসার !

  • আপডেট টাইম বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯

জুলাই ১৭, ২০১৯

ডেইলি টেকনাফ রিপোর্ট :
হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় তছনছ মৌসুমি আক্তার মৌয়ের সুখের সংসার। অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি। তার চোখের পানি অনবরত ঝরছিল। কান্না করতে করতে মৌসুমি বলেন, ‘আমি কিছুই চাই না। আমি আমার স্বামীকে চাই। আমি আমার সুখের সংসার চাই। কী হবে আমার আর আমার শিশুসন্তানের।’

ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া মিকেলের স্ত্রী মৌসুমি মৌ। মৌসুমিও ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট। হঠাৎ স্বামীর মৃ-ত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মৌসুমি।

এদিকে সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া মিকেলের মৃ-ত্যুতে নিজ বাড়িতে চলছে মাতম। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শোক বার্তা দিয়ে আহাজারি করছেন তার বন্ধু ও সহকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম কিবরিয়া নামে পুলিশ মহলে পরিচিত থাকলেও মূলত বন্ধু-বান্ধবের কাছে মিকেল হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাড়ি হলেও শহরে থাকতেন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। পুলিশের দায়িত্ব পালন শেষে বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতেন। সব সময় শান্ত ও হাসিখুশি ছিলেন কিবরিয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ২০১৫ সালে পুলিশে যোগ দেন। পুলিশে যোগ দেয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বরিশালের কোনো বন্ধু-বান্ধব গেলে আপ্যায়ন না করে ছাড়তেন না কিবরিয়া। এসব কারণে বন্ধু ও শিক্ষক মহলে জনপ্রিয় ছিলেন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া।

জানা যায়, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী বন্দরের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী সরদারের বড় ছেলে গোলাম কিবরিয়া মিকেল। তার ছোট এক বোন রয়েছে। ৩ বছর আগে বিয়ে করেন কিবরিয়া। মিকেলের স্ত্রী পুলিশের সার্জেন্ট মৌসুমি আক্তার মৌ বরিশালে কর্মরত। তাদের ২ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পটুয়াখালী সরকারি কলেজে পড়ালেখা করেছেন কিবরিয়া।

সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার অকাল মৃ-ত্যুতে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, আমার স্নেহের ছাত্র মিকেল পুলিশ সার্জেন্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কর্মরত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আঘা-তপ্রাপ্ত হয়ে মঙ্গলবার সকালে মা-রা গেছেন। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

মিকেলের বন্ধু বাপ্পী ফেসবুকে লিখেছেন, বন্ধু, তোমার অকালে চলে যাওয়া আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আল্লাহ তোমাকে জান্নাত দান করুক।

মিকেলের বন্ধু এসডি সুমন লিখেছেন, প্রিয় সতীর্থ পুলিশ সার্জেন্ট মিকেল সোমবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে মৃ-ত্যুবরণ করেছে। তোর চলে যাওয়া মানতে পারছি না বন্ধু। ভালো থাকিস পরপারে, তোর জন্য দোয়া রইলো।

সাখাওয়াত সোহেল নামে আরেক বন্ধু লিখেছেন, কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে। তার মৃ-ত্যুতে গভীরভাবে শোক জানাচ্ছি আমরা। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠি জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা-মেট্রো-উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া।

কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিকের সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার দুই পায়ের চারটি স্থান ভেঙে যায় এবং মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারকেসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে।

কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে আইসিইউতে মা-রা যান গোলাম কিবরিয়া।

আপনার মন্তব্য দিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..