1. engg.robel.seo@gmail.com : DAILY TEKNAF : DAILY TEKNAF
  2. bandhusheramizan@gmail.com : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  3. engg.robel@gmail.com : The Daily Teknaf News : Daily Teknaf
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য কোরআন শিক্ষার সকালের মক্তব - ডেইলি টেকনাফ
বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শক্তিশালী রামুকে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথমবার ফাইনালে টেকনাফ টেকনাফ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে মোঃ আলমগীরকে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চাই এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাবরাং ইউ,পি ছাত্রলীগের সাঃসম্পাদক নজরুল ইসলামের খোলা চিঠি টেকনাফে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা,আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিবাদ ও নিন্দা টেকনাফ উপজেলা আ.লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব এজাহার মিয়ার নববর্ষের শুভেচ্ছা সাবরাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালামের নতুন বছরের শুভেচ্ছা অসুস্থ ছেনোয়ারার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দান করলেন টেকনাফ পৌর মেয়র হাজ্বী মোহাম্মদ ইসলাম ঈদগাঁওতে সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে দুই বাংলা অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের মানববন্ধন টেকনাফ পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাড়ে ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প পরিদর্শন করেন শেখ মুজাক্কা জাহের বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে ২লাখ ৭০হাজার ইয়াবাসহ ট্রলার জব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য কোরআন শিক্ষার সকালের মক্তব

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

মিজানুর রহমান মিজান।

আধুনিক বিশ্বায়নে তথ্য প্রযুক্তির ডিজিটাল যুগে আমার সোনার বাংলার অনেক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রীতি রেওয়াজ হারাতে বসেছি।আগেকার দিনের গ্রামের শীতের দিনে গানের আসর থেকে শুরু করে মুরব্বীদের জড়ো হয়ে পুতি শুনা,মুখ থেকে ধোঁয়া ঝরার কনকনে শীতের রাতে নতুন ধানের বদলে গুড়ের জিলেপি ধানের খলায় বসে খাওয়া,অবারিত সবুজের মাঠ থেকে ফেলু চুরি করে মাটির কলসীতে পুড়িয়ে খাওয়ার আড্ডা,ডাংগুলি,হাডুডু,মইল্যা খেলা সবই এখন বিলুপ্ত প্রায়।তেমনি হারাতে বসেছি শত বছরের গ্রাম বাংলার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সকালের চিরাচরিত দৃশ্য বাচ্চাদের সকালের পবিত্র কোরআন শরীফ শিক্ষার আসর মক্তব।তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাইতে আমাদের বৃহত্তর চট্টগ্রাম কক্সবাজার দেশের শেষ জনপদ বিশেষ করে টেকনাফে এখনও কালের বিবর্তনে অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে গেলেও গ্রাম বাংলার শত বছরের পূরনো সংস্কৃতি বাচ্চাদের সকালের কোরআন শিক্ষার মক্তব যৎসামান্য চোখে পড়ে। আগের মত এখন আর কঁচিকাঁচা শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্য মক্তবে যেতে দেখা যায় না। কালিমা আর আলিফ, বা, তা এর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেনা জনপদ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল কোরআন শুদ্ধ করে জানে এমন একটি মেয়েই হবে ঘরনী। যাতে বাড়ীঘর কোরআনের শব্দে বরকতময় হয়ে উঠে। এখন সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে মুসলিম এই সমাজ থেকে।

মক্তব আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পাঠশালা বা বিদ্যালয়। শিশুদের কোরআন শিক্ষার এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক মৌল জ্ঞানার্জনের উত্তম শিক্ষা কেন্দ্র হলো এ কোরআনি মক্তব। এখান থেকে শিশুরা কোরআনের তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ-রোজার নিয়ম কানুন, জরুরি মাসআলা-মাসায়িল, দোয়া-কালাম ইত্যাদি শিখতে পারে। কিন্তু এমন পাঠশালা থেকে এখন আর অবধারিত রোজ সকালে কোরআনের আওয়াজ কঁচিকাঁচা শিশুদের কন্ঠ থেকে বের হয় না। শিশুদের অভিবাবকদের অবহেলার কারনে মসজিদের ইমাম সাহেবরা এখন মক্তবে কোরআন পড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যার কারনে এলাকার শিশু কিশোররা কোরআন শিক্ষা থেকে বিরত হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মক্তবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও যা চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো জৌলুস নেই। শিশুদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নামে মাত্র চলে এসব কোরআন শিক্ষার পাঠশালা।

কয়েকজন ইমাম সাহেবের সাথে মক্তবের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে এখন অভিবাবকেরা কঁচিকাঁচা শিশুদের মক্তবে পাঠাতে চান না। বেশিরভাগ শিশুরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্কুলে কোচিং অথবা কিন্ডার গার্টেনে ক্লাসের সময় হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে ইসলামী বুনিয়াদি শিক্ষার এ অবারিত ও ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে পরিণত হতে পারে অতীত ইতিহাস।

কালের পরিবর্তনে মক্তব হারিয়ে গেলেও টেকনাফ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এখনো কিছু মক্তব চোখে পড়ে। সরজমিনে ঘুরে দেখাগেছে এখনো উপজেলার উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি ইউনিয়নে, গ্রাম অঞ্চলে মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের বারান্দায় মাত্র কয়েকজন কঁচিকাঁচা শিশু কোরআন পাঠে ব্যস্ত। অথচ এক সময় এই মসজিদগুলোতে দৈনিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো প্রায় অর্ধ শতাধিক। এমনটাই জানালেন মসজিদ কমিটির সদস্য ও ইমাম সাহেবরা। হুজুরদের নিকট মক্তবের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে এখন অভিভাবকেরা কঁচিকাঁচা শিশুদের মক্তবে পাঠাতে চান না।

তারপরও মসজিদ কমিটির আগ্রহে এখনো এই মক্তব গুলো রয়েছে বলে জানান। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের ধর্মীয় শিক্ষায় জাতীকে উদ্ভূদ্ধ করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গন শিক্ষা চালু করেন। বর্তমানে দেশের প্রতিটি উপজেলার কিছু কিছু ইউনিয়নে এমন ফাউন্ডেশন রয়েছে, যেমন উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের আছার বনিয়া গ্রামে।এই গ্রামে পাশাপাশি ২টি মক্তব রয়েছে,এই ২ মক্তবে প্রায় আড়াইশ কঁচি কাঁচা শিশু ও বাচ্চারা পড়াশুনা করে।মক্তবের ২ জন শিক্ষক আরবীর পাশাপাশি নূরানী ও বাংলা ইংরেজিতে দক্ষ।শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা যত্নসহকারে দিতে সক্ষম।এই জামে মসজিদের ঈমাম মওলানা মোহাম্মদ ছাবের হোসেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে শিশুবান্ধব শিক্ষা দান করেন,পাঠদান পরবর্তী সকলকেই একসাথে বিভিন্ন দোয়া দূরুদ,কলেমা ও মাসআলা শিক্ষা দিয়ে আসছেন।তিনি জানান যুগ আধুনিক হলেও এ শিক্ষাটা আমাদের মুসলিম সমাজের জন্য মানুষ গড়ার প্রথম মূল ভিত্তি।এ শিক্ষা একজন বাচ্চাকে নীতি নৈতিকতা,বড়দের সন্মান ছোটদের স্নেহ সর্বোপরি সে বাচ্চা পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিয় মূল্যবোধসম্পন্ন সু মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।তবে আশার কথা হলো বর্তমানে নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে, এ শিক্ষা অনেকটা আলোর বার্তা বহন করছে।তবে সেখানেও মক্তবের প্রাচীন মেন্যুয়েল উপকরণ রাখা খুবই জরুরি।
অনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন এ শিশুদের শিক্ষাদানের কারনে মক্তব হারিয়ে যাওয়ার একমাত্র কারন বলে তিনি মনে করেন অনেক মক্তবের ওস্তাদগন।এই গ্রামের মতো জেলার এবং উপজেলার সবকটি এলাকায় বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন /সাথে মক্তব গতিশীল থাকলে প্রতিটি শিশুর মধ্যেই ছড়িয়ে দেয়া যেতো ধর্মীয় জ্ঞান।আলোকিত হতো আগামীর প্রজন্ম আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ।আমার দেশের প্রতিটি শিশুর জীবন সুন্দর ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সু-নাগরিক হয়ে দেশের তরে দেশের মানুষের তরে কাজ করুন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করুন এ প্রত্যাশা।

( মিজানুর রহমান মিজান)

আপনার মন্তব্য দিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..